Ad Code

🔔 ব্রেকিং
নিউজ লোড হচ্ছে...

কি লাভ দেড় লাখ ধারণ ক্ষমতার মাঠ বানিয়ে? যদি প্রতিবার দর্শকদের কেঁদেই বাড়ি ফিরতে হয়?

 নিজস্ব প্রতিবেদক | আহমেদাবাদ



নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম—বলা হয় ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ক্যানভাস। ১ লক্ষ ৩২ হাজার মানুষের গগনবিদারী চিৎকার যখন একসাথে আছড়ে পড়ে, তখন প্রতিপক্ষ থমকে যাওয়ার কথা। কিন্তু সেই বিশাল গ্যালারিই যখন নিস্তব্ধতায় ডুবে যায়, তখন প্রশ্ন ওঠে—এত বিশাল পরিকাঠামো কি তবে কেবল পরাজয়ের সাক্ষী হতেই?

নীল সমুদ্রের নীরবতা

টানা ১১ ম্যাচে অপরাজিত থেকে ফাইনালে আসা ভারতের সামনে এদিন স্রেফ পরিসংখ্যান ছিল না, ছিল দেড় লাখ মানুষের প্রত্যাশা। কিন্তু মাঠের খেলায় যখন একের পর এক উইকেট পড়তে থাকল, তখন সেই উন্মাদনা রূপ নিল শ্মশানের নীরবতায়। ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম ছাড়ার সময় হাজার হাজার দর্শকের চোখে ছিল জল। কেউ জার্সি দিয়ে মুখ ঢাকছেন, কেউ আবার গ্যালারিতেই বসে রইলেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

সমর্থকদের মনে বড় প্রশ্ন

স্টেডিয়ামের বাইরে ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া এক ভক্ত ক্ষোভের সাথে বলছিলেন, "কী লাভ দেড় লাখ ধারণক্ষমতার মাঠ বানিয়ে? যদি প্রতিবার আমাদের কেঁদেই বাড়ি ফিরতে হয়? গতবারও (২০২৩ বিশ্বকাপ) এই মাঠ আমাদের কাঁদিয়েছিল, এবারও তাই হলো।"

সমালোচকদের মতে, বিশাল মাঠের চাপ অনেক সময় স্বাগতিক খেলোয়াড়দের ওপরই হিতে বিপরীত হয়। বিশাল প্রত্যাশার যে বোঝা এই ১ লক্ষ ৩২ হাজার মানুষ তৈরি করে, তার নিচে কি তবে চাপা পড়ছে ভারতীয় দল?

পরিসংখ্যান ও বাস্তবতা

দেড় লাখ মানুষের ধারণক্ষমতা দিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়া সহজ, কিন্তু সেই উত্তাল গ্যালারির আবেগ সামলানো কঠিন।

২০২৩ বিশ্বকাপ ফাইনাল: এই মাঠেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল ভারতের।

২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল: আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি।

শেষ কথা

একটি স্টেডিয়ামের সার্থকতা কেবল তার সিট সংখ্যায় নয়, বরং সেখানে রচিত হওয়া বিজয়ের ইতিহাসে। আহমেদাবাদে বারবার ‘স্বপ্নভঙ্গ’ হতে দেখে সমর্থকরা এখন বলছেন, আধুনকি সুযোগ-সুবিধার চেয়ে আমাদের এখন প্রয়োজন বড় মঞ্চে স্নায়ু ধরে রাখার সক্ষমতা। না হলে প্রতিবার দেড় লাখ দর্শক নিয়ে গড়া এই "নীল সমুদ্র" স্রেফ কান্নার নোনা জলেই ভাসবে।

খেলতে পারেনা আবার স্টেডিয়াম বানাই।