Ad Code

🔔 ব্রেকিং
নিউজ লোড হচ্ছে...

বিবিসির বিশ্লেষণ ইরানে যুদ্ধ মোড় নিচ্ছে কোন দিকে



 ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংঘর্ষের মধ্যে একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন জ্বলছে। তেহরান, ইরান, ২ মার্চ

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংঘর্ষের মধ্যে একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন জ্বলছে। তেহরান, ইরান, ২ মার্চ
মধ্যপ্রাচ্য

বিবিসির বিশ্লেষণ

ইরানে যুদ্ধ মোড় নিচ্ছে কোন দিকে

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে শুরু হওয়া এই নতুন যুদ্ধে আমরা খুব বেশি সময় পার করিনি। এটি ইতিমধ্যে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। কারণ, ইরান তাদের উপসাগরীয় প্রতিবেশী ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র আরব দেশগুলোতে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার যে আগের অবস্থান ছিল, যুক্তরাজ্য তা থেকে সরে এসেছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। আমার মুঠোফোনে একের পর এক নিউজ অ্যালার্ট আসছে। একটু আগেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পড়লাম। সেখানে বলা হয়েছে, কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ‘ভুলবশত নিজেদের গুলিতে’ যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে।

এই লেখা শেষ করার আগেই হয়তো আরও বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হবে। আর এখন যাঁরা বেঁচে আছেন, তাঁদের অনেকেই হয়তো মারা পড়বেন।

এই যুদ্ধ কখন বা কীভাবে শেষ হবে, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার সময় এখনো আসেনি। একবার যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে যুদ্ধে লিপ্ত পক্ষগুলো কীভাবে এর সমাপ্তি টানতে চায়, তার কিছু সম্ভাব্য উপায় খুঁজে দেখ যাক।

ট্রাম্পের দৃষ্টিতে বিজয়ের সংজ্ঞা

ফ্লোরিডার বাসভবন মার-এ-লাগো থেকে এক ভিডিও বার্তায় যুদ্ধ শুরুর ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর পর থেকেই তিনি বরাবরের মতো মার্কিন শক্তির ব্যাপারে চরম আত্মবিশ্বাস দেখিয়ে আসছেন। অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট হলে হয়তো ওভাল অফিসের রেজোলিউট ডেস্কের সামনে বসে গম্ভীর মুখে এ ধরনের ভাষণ দিতেন।

কিন্তু ট্রাম্প পরেছিলেন একটি ওপেন-নেক শার্ট ও মাথায় ছিল সাদা রঙের বেসবল ক্যাপ, যা তাঁর চোখ পর্যন্ত ঢেকে রাখছিল। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ অভিযোগের তালিকা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ইরান ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্রাম্প যেকোনো সময় তাঁর মত বদলাতে পারেন। তবে ওই ভাষণে তিনি তাঁর নিজের মতো করে বিজয়ের একটি সংজ্ঞা দাঁড় করিয়েছেন। এটি একটি তালিকার মতো:

‘আমরা তাদের সব ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দেব এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনশিল্পকে ধূলিসাৎ করে দেব। এটি আবারও পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হবে।’

‘আমরা তাদের নৌবাহিনীকে ধ্বংস করে ফেলব।’

‘আমরা নিশ্চিত করব যেন এই অঞ্চলের সন্ত্রাসী প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো আর কখনো মধ্যপ্রাচ্য বা বিশ্বকে অস্থিতিশীল করতে না পারে। তারা যেন আমাদের বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে না পারে। তারা যেন আর আইইডি বা রাস্তার ধারের বোমা ব্যবহার করে অসংখ্য মার্কিন নাগরিকসহ হাজার হাজার মানুষকে হত্যা বা গুরুতর আহত করতে না পারে।’

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান এমন সব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম। যদিও  এই দাবির পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মূল্যায়ন পাওয়া যায়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এটাও দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, যা গত গ্রীষ্মে দেওয়া তাঁর নিজের বক্তব্যেরই বিরোধী। সেখানে তিনি বলেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ‘গুঁড়িয়ে’ দিয়েছে।

https://provat-alobd.blogspot.com/2026/03/blog-post.html